বয়সের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে, আজকের বিশ্বের নেতৃত্বে প্রবীণদের আধিপত্য নিয়ে আলোচনা করা জরুরি, কারণ এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। বর্তমান বিশ্বের শক্তিশালী নেতাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৭০ বা তার বেশি। ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের বয়স ৭২, নরেন্দ্র মোদী ৭৪, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৭৫, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭৯ এবং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বয়স ৮৬ বছর। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে আজকাল মানুষ দীর্ঘায়ু পাচ্ছে, তবে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতারা আরো বেশি শক্তি ধরে রেখেছেন, যা তরুণদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সম্প্রতি ন্যাটোর সম্মেলনে, যেমনটি দেখা গেছে, তরুণ নেতারা ৭০ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের সিদ্ধান্তের সামনে নতজানু হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই প্রজন্মের সংঘাত শুধু রাজনৈতিক মঞ্চে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্পষ্ট। ৪৭ বছর বয়সী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রবীণ পুতিনের সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনাকে প্রতিহত করছেন, আর ৭৫ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন।
এমনকি ইরানে যেখানে জনগণের গড় বয়স ৩২, সেখানে ৮৬ বছরের একজন নেতা ক্ষমতায় রয়েছেন। এর পাশাপাশি, ক্যামেরুনের পল বিয়া ৯২ বছর বয়সে ১৯৮২ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে প্রবীণরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে তরুণদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় সমস্যা হতে পারে।
তবে, সমস্যা শুধু প্রবীণ বয়সের নয়, বরং কীভাবে সেই বয়সের শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে নেতারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে দেশ বা বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙে দিচ্ছেন, তাদের পরিবর্তে আমাদের দরকার এমন প্রবীণদের, যারা ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত এবং বিশ্বকে একটি ভালো উত্তরাধিকার দিয়ে যেতে চান।
এই পরিস্থিতি আসলে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার সূচনা নয়, বরং এক মহা ধ্বংসের সূচনা হতে পারে, যদি প্রবীণরা তাদের ক্ষমতা শুধুমাত্র নিজেদের লাভের জন্য ব্যবহার করেন।











