ওমান সাগরের উত্তাল পরিস্থিতিতে আবারও মুখোমুখি হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ফিটজেরাল্ড (ডিডিজি-৬২) ইরানের পর্যবেক্ষণাধীন জলসীমার নিকটবর্তী এলাকায় প্রবেশ করায় দেশটির নৌবাহিনীর তৃতীয় নৌবিমান ইউনিট থেকে একটি দ্রুতগামী হেলিকপ্টার পাঠানো হয় বাধা দিতে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলিকপ্টারটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির ওপর দিয়ে ওড়ে এবং রেডিও বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়—তাদের ইরানের জলসীমা ত্যাগ করতে হবে। জবাবে ইউএসএস ফিটজেরাল্ড-এর ক্যাপ্টেন হুমকি দেন, হেলিকপ্টারটি যদি তাদের ‘নির্ধারিত সীমানা’ অতিক্রম করে, তবে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট হেলিকপ্টারটিকে তাদের পূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা চাদরের আওতায় নিয়ে আসে এবং পুনরায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটিকে দক্ষিণ দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। শেষ পর্যন্ত, উত্তেজনা প্রশমিত করতে ইউএসএস ফিটজেরাল্ড ওমান সাগরের দক্ষিণ দিকে পথ পরিবর্তন করে। ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত মার্কিন পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
এই সাম্প্রতিক সংঘাত স্মরণ করিয়ে দেয় ২০১৯ সালের ২০ জুনের এক ঘটনার কথা, যখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছিল। ইরানের দাবি ছিল, ড্রোনটি হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল, যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশপথে ছিল। ঘটনার পর ইরান ভূপাতিত ড্রোনটির ফিউজেলাজ ও ডানার অংশের ছবি প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, প্রতিটি আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ড্রোনের দাম প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫এ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের তুলনায়ও বেশি। এসব ড্রোন অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি দ্বারা সজ্জিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চতায় থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্ষম।
পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। ১৯৮০-এর দশক থেকে এ অঞ্চল দুটি শক্তিধর দেশের কৌশলগত দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বর্তমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










