Home বিশ্ব চোখের সামনেই শুকিয়ে যাচ্ছে কাস্পিয়ান সাগর: পরিবেশবিদের উদ্বেগ

চোখের সামনেই শুকিয়ে যাচ্ছে কাস্পিয়ান সাগর: পরিবেশবিদের উদ্বেগ

135
0

ছোটবেলায় রুটির সঙ্গে ক্যাভিয়ার খাওয়া আদিলবেক কোজিবাকভ আজ সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। কাজাখস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আকতাউয়ের কাছে কাস্পিয়ান সাগরের তীরে বেড়ে উঠা কোজিবাকভ বর্তমানে একজন পরিবেশবিদ। তার বয়স এখন ৫১, এবং তিনি কাজ করছেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি নাগরিক পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য হিসেবে।

তিনি জানান, ছোটবেলায় ক্যাভিয়ার খেতে তার ভালো লাগত না, তবে এখন এই সাগরের রূপ বদলে গেছে। প্রাকৃতিক ক্যাভিয়ার আর পাওয়া যায় না, স্টারজন মাছ বিলুপ্তপ্রায়, এবং সাগরের জলস্তরও হ্রাস পাচ্ছে। এপ্রিল মাসে ‘ন্যাচার’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি শতাব্দীর শেষে কাস্পিয়ান সাগরের পানির স্তর ১৮ মিটার পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা সাগরের আয়তনের প্রায় ৩৪ শতাংশ ক্ষতি করবে। মাত্র ৫ থেকে ১০ মিটার পানির স্তর কমলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র এবং প্রজাতি যেমন কাস্পিয়ান সিল ও স্টারজনের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে।

কোজিবাকভ বলেন, “সাগর শুকিয়ে যাচ্ছে, এটা বুঝতে আমাদের কোনো গবেষণার দরকার নেই, খালি চোখেই তা স্পষ্ট দেখা যায়।”

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলবেষ্টিত জলরাশি কাস্পিয়ান সাগর পাঁচটি দেশ—রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান এবং আজারবাইজানের মাঝে বিস্তৃত। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘মিডল করিডোর’-এর অংশ, যা চীন থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের দ্রুততম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, এটি বিশাল এক জ্বালানির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু অনেকেই উদ্বিগ্ন যে কাস্পিয়ান সাগরের পরিণতি অ্যারাল সাগরের মতো না হয়ে যায়। সোভিয়েত আমলে অতিরিক্ত নদীর পানি তোলার কারণে অ্যারাল সাগর প্রায় শুকিয়ে যায়, এখন এটি তার আসল আয়তনের মাত্র ১০ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে।

গবেষকরা জানান, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, রাশিয়ার পানি ব্যবস্থাপনার কারণে কাস্পিয়ান সাগরের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে সাগরের ৮০-৮৫ শতাংশ পানি আসে, এবং অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের কারণে নদীর প্রবাহ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

কোজিবাকভ বলেন, “একসময় স্টারজন মাছ বহু বছর বাঁচত। এখন চোরাকারবারি এবং তেল কোম্পানির দূষণে এই মাছ প্রায় বিলুপ্ত।”

তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য কাজাখস্তানের প্রধান তেল ক্ষেত্রগুলি পরিচালনা করছে বিদেশি কোম্পানিগুলি, যাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজাখস্তানের পরিবেশ আইনজীবী ভাদিম নি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যার দাবি, তেল কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তিগুলি গোপন রাখা হয়েছে এবং এর ফলে সাগরের প্রকৃত পরিবেশগত প্রভাব জানা যাচ্ছে না।

কোজিবাকভ এখনও পরিবেশ রক্ষায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, বাসিন্দা ও নাগরিক সংগঠনগুলির সঙ্গে কাজ করছেন কাস্পিয়ান সাগর রক্ষায়। তিনি বলেন, “আমরা চাই সরকারকে জানাতে, মানুষ চিন্তিত। শুধু পরিবেশবিদ নয়, আকতাউয়ের সাধারণ মানুষও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here