নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের নিচু এলাকাগুলো পানিতে ডুবে যায়। রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, মাত্র এক ঘণ্টায় ৭৭ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত বিরল। বন্যার প্রভাব শুধু ওয়েলিংটনেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশটির উত্তর দ্বীপের বিস্তীর্ণ অংশে টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিচু এলাকাগুলোতে—যেমন আইল্যান্ড বে, বারহ্যামপোর এবং আশপাশের আবাসিক এলাকায়—তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের উচ্চভূমিতে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ওয়েলিংটনের মেয়র অ্যান্ড্রু লিটল জানিয়েছেন, বন্যার পানি রাস্তায় উঠে আসায় শতাধিক জরুরি কল এসেছে। অনেক স্থানে গাড়ি পানিতে আটকে পড়েছে এবং সরকারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়েলিংটনের প্রধান টানেলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে বাড়িঘর, দোকানপাট এবং অফিসগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগও প্রভাবিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং জনগণকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুসারে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই বন্যা ঘটনাটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়েলিংটনের মতো উপকূলীয় শহরগুলোতে এমন আকস্মিক বন্যা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। নিউজিল্যান্ড সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাকে সক্রিয় করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে, বিশেষ করে যারা নিচু এলাকায় বাস করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।










