প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র Solomon Islands-এ রাজনৈতিক পালাবদল নতুন করে ভূরাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন Matthew Wale, যাকে তুলনামূলকভাবে অস্ট্রেলিয়াপন্থী এবং চীনের বিষয়ে বেশি সতর্ক নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে এই পরিবর্তনকে কৌশলগতভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে Australia। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে প্রশান্ত মহাসাগরে চীন-অস্ট্রেলিয়া প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese দ্রুত ওয়ালেকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে ক্যানবেরার স্বস্তির বার্তাই স্পষ্ট করেছেন। কারণ মাত্র দুই বছর আগেও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নেতৃত্বে ছিলেন Manasseh Sogavare, যিনি প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে বেশি চীনঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২২ সালে সোগাভারে গোপনে চীনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী Penny Wong এই ঘটনাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছিলেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী ম্যাথিউ ওয়ালে দীর্ঘদিন ধরেই সোগাভারের কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে তাইওয়ানের পরিবর্তে বেইজিংকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে সোগাভারে “বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজ করছেন”।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওয়ালে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে “ভিন্ন ও আরও সম্মানজনক” নীতি অনুসরণ করবেন। তার ভাষায়, সলোমন দ্বীপপুঞ্জকে কোনো দেশের কাছে “নতি স্বীকারকারী ভিক্ষুক” হয়ে থাকা উচিত নয়।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়ালে ক্ষমতায় এসেই চীনের সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করবেন—এমন সম্ভাবনা খুব কম। বরং তিনি বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করবেন এবং একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। মাত্র ৮ লাখ ২০ হাজার মানুষের এই ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি চীন ও অস্ট্রেলিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দেশটি বিপুল আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে।
বিশ্লেষক Ed Cavanough মনে করেন, ওয়ালে হয়তো চীনের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশ করতে পারেন, যা এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল, কারণ কেউ পুরো চুক্তিপত্র দেখেনি।
একইসঙ্গে Lowy Institute-এর গবেষক Connor Graham বলেছেন, ওয়ালের জয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো ফল হলেও এতে সলোমনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে না। কারণ দেশটির মূল সংকট এখন দুর্নীতি, দারিদ্র্য, জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা।
এদিকে চীনও প্রশান্ত মহাসাগরে তার প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রাখতে চাইছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
অস্ট্রেলিয়া ও চীনের এই প্রতিযোগিতা এখন “স্থায়ী কৌশলগত লড়াই”-এ রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। নেতারা বদলালেও প্রশান্ত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তারের এই প্রতিযোগিতা খুব দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।










