Home বিশ্ব সৌদিতে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা, সই হলো বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদিতে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা, সই হলো বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি

138
0

মধ্যপ্রাচ্য সফরের সূচনায় মঙ্গলবার (১৩ মে) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের শুরুতেই সৌদি আরবের ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সৌজন্য নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

প্রথা ভেঙে রিয়াদের বিমানবন্দরে নিজে গিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানান সৌদি সরকারের প্রাদেশিক গভর্নর বা রাজপরিবারের নিম্নপদস্থ সদস্যরা। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে যুবরাজের উপস্থিতি রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।

অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দুটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তাকে রিয়াদ পর্যন্ত এস্কর্ট করে। রিয়াদে অবতরণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নেওয়া হয় গ্র্যান্ড হলে, যেখানে তাকে ঐতিহ্যবাহী আরব কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

তবে সফরের মূল আকর্ষণ ছিল দুই দেশের মধ্যে বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি। আরব নিউজের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ও প্রযুক্তি সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরব উন্নত অস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নজরদারি প্রযুক্তি সংগ্রহ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিগুলো সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে, বিশেষ করে ইরান ও ইয়েমেন সংকটের প্রেক্ষাপটে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

এই সফরকে অনেকেই বলছেন “ঐতিহাসিক”। কারণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবে এটি একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গাজায় চলমান সংঘাত, ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিনটি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সফরের সময়েই গাজা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক এডান আলেকজান্ডারকে, যাকে রেড ক্রসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। ট্রাম্প একে ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ বলে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর শুরু করেছিলেন সৌদি আরব দিয়ে। এবার দ্বিতীয় মেয়াদেও আবার রিয়াদ দিয়েই সফরের সূচনা করলেন তিনি। তবে পার্থক্য হলো—এবার সফরের তালিকায় ইসরায়েলের নাম নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি কৌশলগত বার্তা, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়। সৌদি যুবরাজের প্রথা ভাঙা সম্মান প্রদর্শন, যুদ্ধবিমান এস্কর্ট এবং ঐতিহ্যবাহী আপ্যায়নের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন শুধু কৌশলগত নয়, বরং সমমুখী পথের দিকেই এগোচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here