মিয়ানমারে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপরই ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা সরকার। সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে সাগাইং অঞ্চলের থেইন কুইন গ্রামের একটি স্কুলে চালানো হামলায় ২০ শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
হামলার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষক জানান, “আমরা শিশুদের সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু বিমানটি হঠাৎ করেই আঘাত হানে।”
হামলায় স্কুল ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ধাতব ছাদ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, দেয়ালে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। স্কুল চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল শিশুদের ব্যবহৃত ব্যাগপত্র।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “স্কুল শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হওয়া উচিত, বোমার লক্ষ্য নয়।”
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয় মিয়ানমার। এরপর জান্তা সরকার একতরফাভাবে মানবিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে বাস্তবে সেই ঘোষণা ছিল লোক দেখানো—কারণ সংঘাত এখনও অব্যাহত।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে ২৪৩টি সামরিক হামলার মধ্যে ১৭১টিই ছিল বিমান হামলা। এতে এখন পর্যন্ত ২০০-র বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।










