Home বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা, বিপজ্জনক অঞ্চল থেকে মার্কিন কর্মীদের সরানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা, বিপজ্জনক অঞ্চল থেকে মার্কিন কর্মীদের সরানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

124
0

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের ‘বিপজ্জনক’ এলাকাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১১ জুন) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এটি হতে পারে একটি বিপজ্জনক জায়গা, তাই আমরা সরে যেতে বলেছি। এখন দেখা যাক কী হয়।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মী সংখ্যা হ্রাস করা হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইন থেকেও কিছু মার্কিন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো আমাদের নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং প্রয়োজনে আমরা দ্বিধা না করে সেগুলোকে লক্ষ্য করব।” তবে তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ চাইলে যুদ্ধ হবে না, আলোচনা সফল হবে। তবে যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি কাতারে। ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলায়মানি নিহত হওয়ার পর, ইরান এর জবাবে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এতে অনেক মার্কিন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হন।

বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস উপসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

ট্রাম্প জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি আবার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি বাস্তবায়ন করছেন। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখলেও আলোচনায় ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির লক্ষ্যে এপ্রিল থেকে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসে। নতুন আলোচনার লক্ষ্যই হচ্ছে তার বিকল্প খুঁজে পাওয়া।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি আগে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ইরান সময় নষ্ট করছে, যা দুঃখজনক।” তিনি আরও জানান, আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন, তবে এখন ধৈর্য হারাচ্ছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী সম্প্রতি জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তির সীমা ৩.৬৭ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি হলেও এখনো ৯০ শতাংশের নিচে—যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন।

তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি একান্তই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানকে গোপনে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ খসড়া চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় তারা পাল্টা প্রস্তাব দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here