Home বিশ্ব অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে রাখার পরিকল্পনায় একমত ইইউ, কিন্তু গন্তব্য এখনো অনিশ্চিত

অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে রাখার পরিকল্পনায় একমত ইইউ, কিন্তু গন্তব্য এখনো অনিশ্চিত

419
0

অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যাখাত ব্যক্তিদের ইউরোপের বাইরের কোনো তৃতীয় দেশে সাময়িকভাবে রাখার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তবে কোন দেশে এই ‘ফেরত কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ইইউ জানায়, অবৈধ অভিবাসন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নতুন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তৃতীয় দেশে ফেরত কেন্দ্র স্থাপন, যেখান থেকে শরণার্থী হিসেবে আবেদন বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড জানান, এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজন আবেদন প্রত্যাখ্যাত নাগরিকদের নিজ নিজ দেশকে চুক্তির মাধ্যমে যুক্ত করা। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তিউনিসিয়া, মরক্কো ও মিশরের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইইউ বিভিন্ন অভিবাসন চুক্তি করেছে। এ চুক্তির আওতায় এই দেশগুলো মানবপাচার রোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ নৌযাত্রা ঠেকাতে কাজ করছে এবং বিনিময়ে পাচ্ছে ইইউর অর্থসহায়তা।

তবে ফেরত কেন্দ্র স্থাপন হবে আরও বড় ও জটিল পদক্ষেপ, যা বাস্তবায়নে প্রয়োজন নতুন অংশীদার। কিন্তু এমন অংশীদার খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। উদাহরণস্বরূপ, ইইউ সম্প্রতি লিবিয়ার সঙ্গে আলোচনা চেয়েছিল, কিন্তু লিবিয়া এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ডেনমার্কের বৈঠকে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, তৃতীয় দেশ নির্বাচন সহজ নয়, কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী ভৌগোলিক অবস্থান বেছে নেওয়া যায় না। তিনি অভিবাসন ইস্যুকে মানবিক বিষয় ছাড়াও বাণিজ্য, উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন দেশেও অভিবাসীদের পাঠানো যেতে পারে, যেখানকার সঙ্গে তাদের কোনো পারিবারিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই—এতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

কোপেনহেগেন বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ইইউ সদস্যরাষ্ট্র অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান গ্রহণে সম্মত হয়েছে। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আফগানিস্তানে সম্প্রতি জার্মানির প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অন্যান্য দেশও উৎসাহ পাচ্ছে।

বৈঠকের সময়েই জার্মানির লাইপজিগ থেকে একটি চার্টার্ড বিমানে ইরাকে ৪৩ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ডেনমার্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারে ডিবভাদ জানান, ইউরোপজুড়ে এখন অনেক দেশ তাদের অবস্থান কঠোর করছে এবং জার্মানি এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে—যার সঙ্গে অন্যান্য দেশও যুক্ত হবে।

তবে কোন তৃতীয় দেশে এই ফেরত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সে প্রশ্নে এখনো ইইউ নেতারা ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here