Home বিশ্ব গাজায় শিগগিরই অস্ত্রবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের সম্ভাবনা: জানালেন ট্রাম্প

গাজায় শিগগিরই অস্ত্রবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের সম্ভাবনা: জানালেন ট্রাম্প

120
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে শিগগিরই একটি অস্ত্রবিরতি এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি হতে পারে। শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, আজ বা আগামীকাল এই বিষয়ে কিছু জানাতে পারব। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

তবে হামাস জানিয়েছে, তারা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী—যেমন ইসলামিক জিহাদ—এর সঙ্গেও পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। হামাসের আপত্তি, প্রস্তাবে এমন শর্ত রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে অস্ত্রবিরতির পর ইসরায়েল ফের যুদ্ধ শুরু করতে পারে, যা নেতানিয়াহু আগে থেকেই বলে আসছেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ইসরায়েলি নেতৃত্বের (নেতানিয়াহু ও উপদেষ্টা রন ডারমার) সঙ্গে এবং দোহায় ব্যবসায়ী বিশারা বাহবাহর মাধ্যমে হামাস নেতাদের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত ছিলেন।

হামাস এর আগে জানায়, তারা ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতি এবং ধাপে ধাপে বন্দি মুক্তির যুক্তরাষ্ট্র-প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে। উইটকফ পরে মন্তব্য করেন, হামাস প্রস্তাবটি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ‘অগ্রহণযোগ্য’।

এর পরেও ২০ মে আবার আলোচনা শুরু হয়। দোহায় হামাস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাহবাহ, আর ওয়াশিংটনে উইটকফ ইসরায়েলি উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরদিন হামাস জানায়, তারা একটি কাঠামোর ওপর কাজ করছে, যাতে স্থায়ী অস্ত্রবিরতির আলোচনা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু এবং গাজা শাসনের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কমিটি গঠনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দশজন জীবিত বন্দি ও কিছু মৃতদেহ বিনিময়ের শর্তে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার গ্যারান্টারূপে থাকবে।

এই বিবৃতি প্রকাশের দুই ঘণ্টার মধ্যেই উইটকফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নতুন একটি খসড়া উপস্থাপন করেন।

এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নতুন খসড়াটি আগের থেকে খুব বেশি ভিন্ন নয়। কিছু শব্দ বদলে ইসরায়েল ও হামাসের সম্মতি পাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মূলত হামাসকে আশ্বস্ত করতে বলা হয়েছে যে ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতির মধ্যেই স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা থাকবে, তবে ইসরায়েলের জন্য তা বাধ্যবাধকতা নয়।

ইসরায়েল চায়, অস্ত্রবিরতির প্রথম দিনেই দশজন জীবিত বন্দি মুক্তি পাক। অন্যদিকে হামাস চায় ধাপে ধাপে বন্দিমুক্তি, যেন ইসরায়েল অস্ত্রবিরতির সময়সীমা ভাঙতে না পারে।

ইসরায়েলি পক্ষ আশা করছে, ভাষার কিছু জায়গায় তারা নমনীয় থাকতে পারবে এবং নেতানিয়াহু সময়সীমা নিয়েও কিছুটা ছাড় দেবেন। তবে একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, “চূড়ান্ত পরীক্ষাটি এখনো বাকি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here