বিশ্বজুড়ে বহু দর্শকের অপেক্ষার অবসান ঘটছে ২৩ মে, কারণ সেদিন মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র মিশন ইম্পসিবল: ফাইনাল রেকনিং। বাংলাদেশেও দর্শকদের জন্য সুখবর—একই দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে টম ক্রুজ অভিনীত এই সিনেমাটি।
ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিটের জন্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একই দিনে আরও একটি আলোচিত সিনেমা মার্ভেল স্টুডিওর থান্ডারবোল্টস-ও মুক্তি পাচ্ছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে।
মিশন ইম্পসিবল: ফাইনাল রেকনিং
টম ক্রুজের ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিরিজ বরাবরই দর্শকদের কাছে উত্তেজনার নাম। এবার মুক্তি পাচ্ছে সিরিজের অষ্টম কিস্তি, যা ২০২৩ সালের ‘ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’-এর সরাসরি সিক্যুয়েল।
সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনী হয়, যেখানে অংশ নেন টম ক্রুজসহ প্রধান শিল্পীরা। প্রদর্শনীর পর দর্শকরা পাঁচ মিনিট ধরে করতালি দিয়ে সিনেমাটিকে স্বাগত জানান।
টম ক্রুজ সেখানে আবেগঘন ভাষণে বলেন, “৩০ বছর ধরে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। ছোটবেলায় এমন কিছু স্বপ্নেও ভাবিনি।”
ফিল্মটির নির্মাতা ক্রিস্টোফার ম্যাককোয়ারির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তোমার সঙ্গে আরও সিনেমা করতে চাই।”
এই কিস্তিতে দেখা যাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া একটি এআই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট, যেখানে ইথান হান্ট চরিত্রে টম ক্রুজ আরও একবার অসম্ভবকে সম্ভব করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। সিনেমার বাজেট ছিল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
ট্রেলারে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের নজর কেড়েছে—টম ক্রুজকে দেখা যায় ফাইটার জেট থেকে ঝাঁপ দিতে, উল্টে যাওয়া বিমানে ঝুলতে এবং ডুবোজাহাজে লড়াই করতে।
এই দৃশ্যগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা জানিয়ে টম বলেন, “বিমানের মুখোমুখি যখন আপনি ঘণ্টায় ১২০–১৩০ মাইল গতির মুখে পড়েন, তখন শ্বাস নেওয়াই কঠিন। আমি মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম।”
এই কিস্তি হতে পারে টম ক্রুজের মিশন ইম্পসিবল সিরিজে শেষ উপস্থিতি। কারণ, তিনি আগেই এই সিরিজের নাটকীয় সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
থান্ডারবোল্টস
মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের পঞ্চম ধাপের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে থান্ডারবোল্টস ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জ্যাক শ্রিয়ার পরিচালিত এ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন এরিক পিয়ারসন ও জোয়ানা ক্যালো। এতে অভিনয় করেছেন ফ্লোরেন্স পু, সেবাস্তিয়ান স্ট্যান, ডেভিড হারবার, জুলিয়া লুই-ড্রেফাসসহ একঝাঁক তারকা।
গল্পে দেখা যায়, বিতর্কিত অতীতের ছয় অ্যান্টিহিরো—ইয়েলেনা বেলোভা, বাকি বার্নস, রেড গার্ডিয়ান, ঘোস্ট, টাস্কমাস্টার ও জন ওয়াকার—একটি মারাত্মক ফাঁদে পড়ে। এই ফাঁদ তৈরি করে ভ্যালেন্টিনা দে ফন্টেইন। নিজেদের বাঁচাতে তারা বাধ্য হয় একটি ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে অংশ নিতে।
সিনেমাটিতে দলগত দ্বন্দ্ব, অতীতের পাপ ও আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় চরিত্রগুলো। মার্ভেল তাদের নতুন ধারায় চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, যা আগের চেয়ে বেশি গভীর ও আবেগনির্ভর।










