রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিক্ষার্থী দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী ও অগ্নিদগ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা শারমিন আঁখি। সামাজিকমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানিয়েছেন কীভাবে এই শিশুদের জন্য সবার সহানুভূতি ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি একটি নাটকের শুটিং সেটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছিলেন শারমিন আঁখি। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়, শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ভয়াবহ স্মৃতি থেকে ফিরে এসে এখনো চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন তিনি।
উত্তরার মর্মান্তিক ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে আঁখি লেখেন,
“আগামী এক সপ্তাহ বাচ্চাদের কাছে যত কম ভিজিটর যাওয়া যায়, ততই মঙ্গল। প্রচুর ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকবে এই সময়টা। আগুনে পোড়ার পরবর্তী এফেক্ট হচ্ছে ইনফেকশন। আমরা আবেগে ভিজিট করতে চাই, কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের দেখতে যাওয়াটা বিপজ্জনক হতে পারে।”
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, পোড়া চামড়ায় কোনও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে না। ইনফেকশনই বেশিরভাগ অগ্নিদগ্ধ রোগীর মৃত্যুর কারণ। “পোড়ায় মরে না, ইনফেকশনে মরে”—এই কথাটিই বাস্তব।”
চিকিৎসার কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক যন্ত্রণার কথাও বলেন শারমিন। তার ভাষায়, “চামড়ার পোড়ার কষ্টের সঙ্গে অন্য কোনও যন্ত্রণার তুলনা চলে না। ড্রেসিংয়ের সময় যন্ত্রণাটা ভয়ানক। নতুন চামড়া এলে আবার সেটাও ঘষে উঠাতে হয়। ট্রমা শুরু হবে দশ দিন পরে, এখন প্রতিটা বাচ্চাই অনুভূতিশূন্য।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে ওদের আশপাশে ডাক্তার ছাড়া যত কম লোক থাকবে, ততই ভালো। আর বাসায় ফেরার পর প্রতিটি বাচ্চার মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন। আমি নিজেও তিন মাস মনোসামাজিক থেরাপির মধ্যে ছিলাম। শুধু শরীর নয়, মনও সুস্থ রাখতে হয়।”
শারমিন আঁখি তার অভিজ্ঞতা দিয়ে একটি বার্তাই তুলে ধরেছেন—শুধু সহানুভূতি নয়, দায়িত্বশীলতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতন আচরণই পারে দগ্ধ শিশুদের জীবন রক্ষা করতে। সমাজ হিসেবে আমাদের উচিত এখনই সেই মানবিক দায়িত্ব পালন করা।










