Home খেলা “আমি জানতাম আমি ব্যথায় ভুগছি, তবু বলেছিলাম—যুদ্ধ করতে হলেও ব্যান্ডেজ বেঁধেই মাঠে...

“আমি জানতাম আমি ব্যথায় ভুগছি, তবু বলেছিলাম—যুদ্ধ করতে হলেও ব্যান্ডেজ বেঁধেই মাঠে নামব।”

169
0

মাত্র ছয় দিন আগে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে চিকিৎসকরা বলেছিলেন—লাউতারো মার্তিনেসকে অন্তত তিন-চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

কিন্তু লাউতারো কি কেবল ডাক্তারের শংসাপত্রে থেমে থাকবেন? দ্বিতীয় লেগেই ফিরলেন, করলেন গোল, জিতলেন পেনাল্টি এবং ইন্টার মিলানকে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পৌঁছে দিলেন।

এটাই ইন্টার মিলানের প্রকৃত ‘ক্যাপ্টেন কারেজ’—লাউতারো মার্তিনেস।

তার নিজের ভাষায়,
“আমি পুরোপুরি ফিট ছিলাম না। বাসায় কেঁদেছি। মা বলেছিলেন, যেন খেলি না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল—এটা আমার যুদ্ধ, আমাকে খেলতেই হবে।”

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নয়, যেন এক ব্যক্তিগত যুদ্ধ

আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কার এক ফুটবল-ভক্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা লাউতারোর রক্তে ছিল খেলার নেশা। বাবা ও দাদা ছিলেন ফুটবলার, দাদিমাও ছিলেন শহরের প্রথম নারী ফুটবলার। ছোট ভাই পেশাদার বাস্কেটবল খেলেন।

শুরুতে খেলতেন রক্ষণে। একবার বলেছিলেন,
“আমি ক্রসবারে পড়ে যেতাম, মজা লাগত!”

১২ বছর বয়সে বোকা জুনিয়র্সের ট্রায়ালে গিয়েছিলেন, ফিরিয়ে দেওয়া হয়—“গতি নেই, শক্তি নেই।” আজ সেই কথাগুলোই বোকা কর্মকর্তাদের কাছে তীব্র ব্যঙ্গ হয়ে ফিরে আসে।

ইন্টারে ‘এল তোরো’ হয়ে উঠা

২০১৮ সালে ২৫ মিলিয়ন ইউরোয় রেসিং ক্লাব থেকে ইন্টারে যোগ দেন লাউতারো। ছয় বছরে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্দান্ত ইতিহাস।
৩৩০ ম্যাচে ১৫১ গোল করে হয়েছেন ইন্টারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা বিদেশি। ছুঁয়েছেন ক্রেসপোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (৯ গোল)। ইউরোপে ইন্টার জার্সিতে পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি মাজোলাকেও।

লাউতারো বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি, এতদূর পৌঁছাব। ক্লাবের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমি মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিতে চাই।”

জাতীয় দলে লাউতারো জিতেছেন বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা (দুইবার) এবং ফিনালিসিমা। ক্লাবে লিগ, কাপ ও সুপার কাপ মিলিয়ে সাতটি ট্রফি তার ঝুলিতে। বাকি শুধু ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব।

তার ভাষায়,
“বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ হয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ? ওটা এখনো অধরা।”

ব্যালন ডি’অর? সম্ভব!

ইন্টার যদি এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে, তাহলে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকবেন লাউতারো। যদিও তিনি নিজেই বলেছেন—
“ব্যালন ডি’অর নিয়ে ভাবি না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা জেতা, যেটা আমরা ১৫ বছর ধরে পাইনি।”

লড়াই করে ফিরে আসার নামই লাউতারো

যখন এক ক্লাব আপনার পাশে থাকে, তখন খেলোয়াড়ও তার সবটুকু উজাড় করে দেয়।
বোকা জুনিয়র্স তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল।
ইন্টার তাকে ভালোবেসেছে।
আর লাউতারো, এই ‘এল তোরো’, বারবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

এখন শুধু অপেক্ষা ফাইনালের। সেখানেই হয়তো তিনি অর্জন করবেন নিজের ‘পার্সোনাল গ্র্যান্ড স্লাম’। আর শুরু হবে তার ব্যালন ডি’অর জয়ের নতুন অধ্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here