Home খেলা গ্ল্যামার নয়, গৌরবই লক্ষ্য: পিএসজিতে লুইস এনরিকের নির্মাণশৈলী

গ্ল্যামার নয়, গৌরবই লক্ষ্য: পিএসজিতে লুইস এনরিকের নির্মাণশৈলী

169
0

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্নে আবারও বিভোর প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে এবার দলটা অনেকটাই ভিন্ন।

বিশ্বখ্যাত তারকানির্ভর “ব্লিং ব্লিং” যুগ পেছনে ফেলে ক্লাবটি এখন তরুণ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সম্মিলিত শক্তির ওপর আস্থা রাখছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের বিদায়ের পর, নতুন পথের নকশা আঁকছেন এক মানুষ—লুইস এনরিকে।

নির্মাতা হিসেবে এনরিকের আবির্ভাব

পিএসজির অভ্যন্তরে তাকে বলা হয় ‘ফুটবল স্থপতি’।
তিনি বোঝাতে পেরেছেন প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফি এবং ক্রীড়া পরামর্শক লুই কাম্পোসকে—সংগঠিত ও যুব নির্ভর দলই ভবিষ্যতের সাফল্যের চাবিকাঠি।

তার হাতে গড়া এই নতুন দল এখন পৌঁছে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে—প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলান, যার অভিজ্ঞতা বিশাল।

মাঠে শৃঙ্খলা, জীবনে ভারসাম্য

প্রতিদিন সকালে খালি পায়ে হাঁটেন অনুশীলন মাঠে—প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগই তাকে ভারসাম্য দেয় বলে বিশ্বাস করেন এনরিকে। এই জীবনদর্শন ফুটবলেও প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, “আমি যখন কোচ, নিয়ন্ত্রণও আমার হওয়া উচিত।”

এই মনোভাবেই এনরিকে দলে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিয়ম-শৃঙ্খলা। তিনি কাউকে ছাড় দেন না। ওসমান দেম্বেলেকে পরিশ্রম না করায় বাদও দিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে তিনিই হয়েছেন দলের মূল ভরসা।

ব্যক্তিগত শোকের পরিণতিতে সাহসিকতা

২০১৯ সালে হাড়ের ক্যানসারে মেয়েকে হারান এনরিকে।
তবুও তিনি বলেন, “ওর শরীর নেই, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে থাকে। প্রতিদিন আমরা ওকে স্মরণ করি।”

এই ট্র্যাজেডি তাকে করেছে আরো মানবিক, দৃঢ়চেতা—এমন একজন মানুষ, যিনি বলেন, “আমাকে বরখাস্ত করলেও আমি সাইকেল নিয়ে ঘুরব।”

তারকাবর্জিত নবীন পিএসজি

এমবাপ্পে চলে যাওয়ার পর এনরিকের হাতে ছিল পূর্ণ স্বাধীনতা। তারকাদের বাদ দিয়ে এনরিকে দলে নিয়েছেন তরুণ প্রতিভাদের—ডেসিরে দোয়ে, ব্রাডলি বারকোলা, ওসমান দেম্বেলে, এবং ৭০ মিলিয়ন ইউরোয় আনা জর্জিয়ান তরুণ খিচা কাভারাস্কেইয়া।

বিশ্লেষক প্যাট নেভিনের মতে,
“খিচার মধ্যে একজন আদর্শ উইঙ্গারের সব গুণ আছে—সাহস, কৌশল, গতি। তাকে আটকাতে গিয়ে অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি হয়।”

দলের গড় বয়স মাত্র ২৪ বছর ২৬২ দিন—চলতি আসরে এটিই সবচেয়ে কম।

এদের হাই প্রেসিং ও দ্রুতগতির খেলা প্রতিপক্ষদের নাকাল করেছে। চলতি মৌসুমে তারা ৩৭টি হাই টার্নওভারের মাধ্যমে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছে—সর্বোচ্চ।

ম্যানসিটি, আর্সেনাল, লিভারপুল—সবাই এই তরঙ্গের নিচে চাপা পড়েছে।

ফাইনালে প্যারিসের সাহসী কণ্ঠ

এবার গ্যালারিতে পিএসজির ‘আলট্রা’ সমর্থকেরা থাকবেন সরাসরি, যেটি ২০২০ সালের কোভিড-আবদ্ধ ফাইনালে ছিল না। মিউনিখে টিফোতে তারা লিখেছে:
“ঢেউয়ের আঘাতে বিধ্বস্ত, তবুও প্যারিস কখনো ডোবেনি।”

এই বার্তাই যেন প্রতিফলন পায় এনরিকে এবং তার দলে।

গত এক দশকে একবার ফাইনাল, দুইবার সেমিফাইনাল—বাকি সময়ে হতাশা। এবার লুইস এনরিকে যেন সেই ব্যর্থতার অধ্যায় মুছে লিখতে চলেছেন নতুন ইতিহাস।

তরুণ, সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ এই পিএসজি কি পারবে ইউরোপ সেরা হতে? উত্তরের অপেক্ষায় প্যারিস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here