২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রেক্ষিতে, ৯০টিরও বেশি মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দমনমূলক’ অভিবাসন নীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাঠানো একটি যৌথ চিঠিতে অনুরোধ করেছেন যে, ফিফা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুক যেন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দর্শক এবং অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তার হোয়াইট হাউসে বারবার উপস্থিতির কারণে, ফিফা এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, ফিফা যদি নীরব থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী ইমেজকে সমর্থন করা হবে।
এ চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, NAACP, ACLU, এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি দেশে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে ২৬ লাখ দর্শকের উপস্থিতির জন্য একটি বড় বাধা হতে পারে।
বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১২টি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ইরানও আছে, যা ইরানের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দিতে পারে। তাছাড়া, আরও ৩৬টি দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, যার মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকার দেশ।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ফিফার মানবাধিকার নীতিমালার ভিত্তিতে, বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, চলাফেরা এবং মতপ্রকাশের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর ‘নিষ্ঠুর ও অপমানজনক’ আচরণের সমালোচনা করেছে।
এছাড়া, গত ক্লাব বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা সিবিপি ফেসবুকে পোস্ট করেছিল যে তারা স্যুট পরিহিত অবস্থায় নিরাপত্তা প্রদান করতে প্রস্তুত। ফিফার হস্তক্ষেপে পোস্টটি সরানো হয়, তবে কেন তা সরানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
সংগঠনগুলো মনে করে, ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের জন্য শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, বরং একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত এবং সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যাতে সকল জাতি, মত ও পরিচয়ের মানুষ অংশ নিতে পারে।










