ফুটবল মাঠে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কমাতে নতুন একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষায় নেমেছে ফিফা। গোলের ঠিক আগমুহূর্তে বলটি মাঠের সীমানা অতিক্রম করেছে কি না—তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সহায়তা করবে ‘আউট অফ বাউন্ডস’ নামের এই নতুন প্রযুক্তি।
চলতি মাসে কাতারে অনুষ্ঠিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে তিনটি ম্যাচে সফলভাবে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
এই প্রযুক্তি ফিফা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হক-আই ইনোভেশনস-এর যৌথ উদ্ভাবন। এর পাশাপাশি আরও উন্নত করা হয়েছে ‘রিয়েল-টাইম থ্রিডি রিক্রিয়েশন’ সিস্টেম, যা অফসাইড সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
এই প্রযুক্তির সাহায্যে খুব অল্প সময়ে থ্রিডি ফিডের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে, কোনো খেলোয়াড় গোলরক্ষকের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত করছেন কি না। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এবং টিভি দর্শকরা গোলরক্ষকের চোখের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘটনাটি দেখতে পাবেন, যা সিদ্ধান্তকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে।
কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
গত কয়েক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগসহ শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোতে বল মাঠের বাইরে গেছে কি না বা অফসাইডে গোলরক্ষকের দৃষ্টি আটকে দেওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, দুই মৌসুম আগে আর্সেনাল বনাম নিউক্যাসল ম্যাচে জো উইলকের বল লাইনের বাইরে গিয়েছিল কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি, কারণ ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল যথেষ্ট ছিল না।
সম্প্রতি আর্সেনাল বনাম টটেনহ্যাম ম্যাচেও লেয়ান্ড্রো ট্রোসার্ডের একটি গোল নিয়ে বিতর্ক হয়—তিনি কি গোলরক্ষকের দৃষ্টিসীমা ব্লক করেছিলেন?
এইসব অস্পষ্টতা দূর করতে নতুন থ্রিডি প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুধু সিদ্ধান্ত নয়, নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে প্রযুক্তি
নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু নির্ভুল সিদ্ধান্তই আসবে না, এটি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। অনেক সময় অফসাইড হলেও খেলা বন্ধ না হওয়ায় মাঠে ঘটে যায় দুর্ঘটনা।
যেমন, গত মে মাসে নটিংহাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার তাইয়ো আওনিয়ি অফসাইডে থাকার পরেও খেলা চলতে থাকায় গোলপোস্টে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন এবং কোমায় চলে যান।
এই ঝুঁকি কমাতে ফিফা এখন সহকারী রেফারিদের কানে স্বয়ংক্রিয় অডিও অ্যালার্ট পাঠানোর ব্যবস্থা করছে, যেন অফসাইড বুঝেই তাৎক্ষণিকভাবে ফ্ল্যাগ তুলে খেলা থামানো যায়।
ইতিমধ্যে একটি গোল বাতিল করেছে প্রযুক্তি
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনালে পিএসজির ফ্যাবিয়ান রুইসের একটি গোল এই প্রযুক্তির সহায়তায় বাতিল করা হয়, কারণ গোলের আগে বলটি সাইডলাইনের বাইরে চলে গিয়েছিল।
বর্তমানে প্রযুক্তিটি অফলাইন টেস্টিং পর্যায়ে থাকলেও, ফিফার পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে এটি ঘরোয়া লিগগুলোতেও ব্যবহার চালু করার।










