অস্ট্রেলিয়ার ধনী সম্পত্তি বিনিয়োগকারী ও উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য বড় কর ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লেবার সরকারের প্রস্তাবিত কর সংস্কারের আওতায় অনেক বিনিয়োগকারীকে গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত Capital Gains Tax (CGT) পরিশোধ করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন সত্ত্বেও ধনী শহুরে আসনগুলোতে জনপ্রিয় “টিল” স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি ভোটার সমর্থনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সম্পত্তি ও বিনিয়োগসম্পর্কিত কর সুবিধাগুলো সীমিত করা। বিশেষ করে নেগেটিভ গিয়ারিং ও CGT ডিসকাউন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে Anthony Albanese-এর নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তি যদি সম্পত্তি, শেয়ার বা অন্য বিনিয়োগ সম্পদ অন্তত ১২ মাস ধরে রাখেন, তাহলে বিক্রির সময় লাভের ওপর ৫০ শতাংশ CGT ছাড় পান। কিন্তু নতুন সংস্কারের আওতায় এই ডিসকাউন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো বা পুনর্গঠন করা হতে পারে।
ফলে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি বা বিনিয়োগ সম্পদ বিক্রির সময় ধনী বিনিয়োগকারীদের করের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সিডনির হারবারসাইড এলাকা বা অভিজাত শহরতলির অনেক সম্পদশালী পরিবারকে অতিরিক্ত কয়েক দশ হাজার ডলার কর দিতে হতে পারে, যেখানে কিছু বিনিয়োগকারীর সম্ভাব্য অতিরিক্ত করের পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই বিতর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ অস্ট্রেলিয়ার অনেক “টিল” আসন—যেগুলোতে জলবায়ু নীতি, সুশাসন ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনপ্রিয়—সেগুলো মূলত উচ্চশিক্ষিত ও ধনী পেশাজীবীদের এলাকা।
তবে রাজনৈতিক কৌশলবিদরা মনে করছেন, এসব এলাকার ভোটাররা কেবল কর কমানোর প্রশ্নে ভোট দেন না। বরং জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক সততা, লিঙ্গ সমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে কর বাড়লেও “টিল” সমর্থকদের বড় অংশ এই সংস্কারের বিরোধিতা করবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক ভোটার বিশ্বাস করেন, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি কর আরোপ করলে আবাসন বাজার আরও ন্যায্য হতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনা সহজ হতে পারে।
লেবার সরকারের সমর্থকরা বলছেন, বর্তমান কর ব্যবস্থা মূলত ধনী বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয় এবং সম্পত্তি বাজারে জল্পনাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাড়ির দাম আরও বাড়িয়ে তোলে। তাদের মতে, কর ছাড় সীমিত করলে অর্থনীতি সম্পত্তিনির্ভরতা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারবে।
তবে সমালোচকরা সতর্ক করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হতে পারে এবং অনেক বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে চলে যেতে পারেন। এতে ভাড়ার জন্য উপলভ্য বাড়ির সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কিছু অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক পরামর্শক আরও বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান কর নীতির ওপর ভিত্তি করে যারা অবসরকালীন সঞ্চয় বা সম্পদ পরিকল্পনা করেছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন বড় আর্থিক আঘাতে পরিণত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর সংস্কার, সম্পদ বৈষম্য এবং আবাসন সংকট এখন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। সরকার একদিকে বাজেট টেকসই রাখতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করতে চায়, অন্যদিকে আবাসন বাজারকে আরও সাশ্রয়ী করার চাপও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে CGT ও নেগেটিভ গিয়ারিং সংস্কার আগামী সময়ে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে আসতে পারে।










