Home মার্কেট বাজেট বিতর্কে ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার, বড় পতন CBA শেয়ারে

বাজেট বিতর্কে ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার, বড় পতন CBA শেয়ারে

29
0

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক ও কর বিতর্কের মধ্যে বড় চাপের মুখে পড়েছে দেশটির শেয়ারবাজার। বিশেষ করে Commonwealth Bank-এর শেয়ার প্রায় ৮ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় পুরো ASX 200 সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, Commonwealth Bank-এর এই বড় পতনের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক খাতের অতিমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ, ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং Anthony Albanese সরকারের নতুন কর ও আবাসন সংস্কারের অর্থনৈতিক প্রভাব।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বাজেটে নেগেটিভ গিয়ারিং, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) এবং ট্রাস্ট ট্যাক্স ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে সম্পত্তি বিনিয়োগকারীরা ঋণ ও বিনিয়োগ কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। এর ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিরোধী দলের ট্রেজারি মুখপাত্র Angus Taylor বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রেজারার Jim Chalmers-এর বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছেন।

টেইলরের মতে, নতুন কর সংস্কার ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন অস্ট্রেলিয়া আবাসন সংকট ও দুর্বল উৎপাদনশীলতার মুখোমুখি।

তবে সাবেক ট্রেজারি সচিব Ken Henry বাজেটের কিছু অংশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি সরকারের “রাজনৈতিক সাহসের” প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার করব্যবস্থাকে শুধু আয়করের ওপর নির্ভর না রেখে সম্পদ ও সম্পত্তিভিত্তিক কর ব্যবস্থার দিকে নেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে।

কেন হেনরি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান করব্যবস্থা শ্রমজীবী মানুষদের ওপর বেশি চাপ তৈরি করে, অথচ সম্পত্তি ও মূলধনী মুনাফার মাধ্যমে সম্পদ বাড়ানোকে বেশি সুবিধা দেয়।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই বাজেট শুধু রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ।

তবে বাজার এখনো বিভক্ত রয়েছে এই সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে।

সংস্কারের সমর্থকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে আবাসন বাজারে ভারসাম্য আনতে পারে এবং কর ব্যবস্থার বিকৃতি কমাতে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এই নীতির ফলে—

  • আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ কমতে পারে
  • নির্মাণ খাতের গতি কমে যেতে পারে
  • ভোক্তা আস্থা দুর্বল হতে পারে
  • ব্যবসা ও আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের শেয়ার বিক্রির পেছনে আরও একটি কারণ হলো পরিবারগুলোর ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা, বাড়তি মর্টগেজ চাপ এবং সম্পত্তি বাজারে সম্ভাব্য ধীরগতি।

পুরো বিতর্কটি এখন অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় আদর্শিক বিভাজনও সামনে এনেছে। প্রশ্ন উঠছে—দেশটির প্রবৃদ্ধি কি ভবিষ্যতেও সম্পত্তি ও সম্পদমূল্যের ওপর নির্ভর করবে, নাকি উৎপাদনশীলতা, মজুরি বৃদ্ধি এবং বিস্তৃত কর সংস্কারের দিকে অর্থনীতি ধীরে ধীরে মোড় নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here