Home Economics মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নগদ প্রণোদনায় সতর্ক থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নগদ প্রণোদনায় সতর্ক থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

26
0

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় থাইল্যান্ডের অর্থনীতি নতুন চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে বড় আকারের নগদ প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর বিষয়ে সতর্ক করেছে।

Bank of Thailand জানিয়েছে, ব্যাপক নগদ সহায়তা বা ভোক্তা প্রণোদনা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও রাজস্ব সক্ষমতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে সরকারের আর্থিক নমনীয়তা ধরে রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধঘটিত জ্বালানি ধাক্কা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ার ফলে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, থাইল্যান্ডের উচিত স্বল্পমেয়াদি নগদ সহায়তার বদলে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

অন্যদিকে থাই প্রধানমন্ত্রী Anutin Charnvirakul প্রায় ৪০০ বিলিয়ন বাথ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে—

  • নগদ সহায়তা কর্মসূচি
  • জ্বালানি সহায়তা
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর প্রকল্প

এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বাড়তি তেলের দাম ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে।

তবে বিরোধী দলগুলো এই ঋণ পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, থাইল্যান্ডের সরকারি ঋণ ইতোমধ্যেই জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা দেশটির স্বেচ্ছানির্ধারিত ঋণসীমা।

সমালোচকদের মতে, অর্থনীতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবৃদ্ধির মধ্যে থাকলেও “জরুরি ঋণ” নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।

Bank of Thailand পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ১.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত বছর এই প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৪ শতাংশ।

নীতিনির্ধারকরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এপ্রিল বৈঠকে সুদের হার ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তাদের মতে, বর্তমান সুদের হার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে।

ব্যাংক আরও জানিয়েছে, জ্বালানি মূল্যের কারণে স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, তবে আগামী বছরে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী Ekniti Nitithanprapas সরকারের প্রণোদনা ও ঋণ পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি বাজারের ধাক্কার কারণে দেশটি এখন “জটিল সংকটের” মুখে রয়েছে। তার মতে, নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো আগামী দুই বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আবার ৩ শতাংশের ওপরে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ড এখন একটি কঠিন ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—একদিকে অর্থনীতিকে স্বল্পমেয়াদে সহায়তা দেওয়া, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণঝুঁকি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here