Home এশিয়া পেসিফিক অ্যালবানিজের বড় বাজি: বুমারদের সম্পদ থেকে তরুণদের দিকে সম্পদের প্রবাহ ঘোরাতে ঐতিহাসিক...

অ্যালবানিজের বড় বাজি: বুমারদের সম্পদ থেকে তরুণদের দিকে সম্পদের প্রবাহ ঘোরাতে ঐতিহাসিক কর সংস্কার

22
0

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese এবং ট্রেজারার Jim Chalmers ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটে এমন এক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা দেশটির সম্পত্তি বাজার ও কর ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক দশকে সম্পত্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত কর আদায় করে সেই অর্থের বড় অংশ তরুণ কর্মজীবী ও প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া অস্ট্রেলিয়ানদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

এই বাজেটকে বিশ্লেষকরা “প্রজন্মভিত্তিক সম্পদ পুনর্বণ্টনের” বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। কারণ লেবার সরকার কার্যত বেবি বুমার ও ধনী বিনিয়োগকারীদের কর সুবিধা কমিয়ে তরুণ মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের দিকে আর্থিক সুবিধা সরিয়ে দিচ্ছে।

নির্বাচনের আগে কর ছাড়ে হাত না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, অ্যালবানিজ সরকার এবার নেগেটিভ গিয়ারিং, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) এবং ফ্যামিলি ট্রাস্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে বহু বছর ধরে চালু থাকা বিনিয়োগবান্ধব কর সুবিধাগুলো সীমিত করা হচ্ছে।

নতুন নীতিতে এখন থেকে শুধুমাত্র নতুন নির্মিত বাড়িতে বিনিয়োগ করলে নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ পুরনো বা বিদ্যমান বাড়ি কিনে লোকসান দেখিয়ে কর ছাড় নেওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের যুক্তি হলো, এতে বিনিয়োগকারীরা নতুন বাড়ি নির্মাণে অর্থ লগ্নি করবেন, ফলে আবাসন সরবরাহ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা সহজ হবে।

একই সঙ্গে সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ৫০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ডিসকাউন্টও পরিবর্তন করা হচ্ছে। এখন থেকে সম্পদের প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি, অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি বাদ দিয়ে যে লাভ হবে, তার ওপর কর আরোপ করা হবে। পাশাপাশি অবসরের সময় কম আয়ের সুযোগ নিয়ে কম কর দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে “রিয়েল ক্যাপিটাল গেইন”-এর ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর চালু করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ডিসক্রিশনারি ট্রাস্টের আয় বণ্টনের ওপরও ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর বসানো হবে। তবে কৃষক ও উইল-ভিত্তিক ট্রাস্টকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে, কারণ সরকার জানে এই খাতে রাজনৈতিক বিরোধিতা প্রবল হতে পারে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এসব কর সংস্কার থেকে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে। তবে শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন “ওয়ার্কিং অস্ট্রেলিয়ানস ট্যাক্স অফসেট” চালু করতে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এই অফসেটের আওতায় ২০২৭ সাল থেকে কর্মজীবীরা বছরে ২৫০ ডলার পর্যন্ত কর ছাড় পাবেন।

চ্যালমার্স দাবি করেছেন, সরকারের লক্ষ্য বাড়ির দাম কমানো নয়, বরং বাড়ির মূল্যবৃদ্ধির গতি কমানো। সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে আগামী বছরগুলোতে বাড়ির দামের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে, যা গড় বাড়ির ক্ষেত্রে প্রায় ১৯ হাজার ডলারের সমান।

সরকার আরও আশা করছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৭৫ হাজার মানুষ প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন এবং আগামী এক দশকে বাড়ির মালিকানার হার ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৭ শতাংশে পৌঁছাবে।

তবে সমালোচকরাও কম নন। বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ করছেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে এবং বিনিয়োগকারীদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপিয়ে অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিরোধী ট্রেজারি মুখপাত্র Tim Wilson এই বাজেটকে “অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার ওপর আঘাত” বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে স্বাধীন অর্থনীতিবিদ Chris Richardson বলেছেন, কর ছাড় সীমিত করা বাজেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার হলেও দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে, বিশেষ করে এনডিআইএস সংস্কারের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর খাতে।

বাজেটে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের দামের ধাক্কা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ রক্ষায় সরকারকে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যালবানিজ সরকারের এই বাজেট একটি উচ্চঝুঁকির রাজনৈতিক জুয়া। কারণ সরকার বিশ্বাস করছে, আবাসন সংকটে ক্ষুব্ধ তরুণ ও মধ্যবয়সী ভোটাররা বিনিয়োগকারীদের কর সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে। তবে একই সঙ্গে এই নীতি সম্পত্তি বিনিয়োগকারী ও ধনী শ্রেণির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here