Home বাংলাদেশ National ট্রাইব্যুনালে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান

ট্রাইব্যুনালে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান

74
0

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন দাখিল করে তার পূর্ববর্তী মন্তব্যকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন এবং আদালতের করুণা চান। এ বিষয়ে শুনানি হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর।

এর আগে ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চ ফজলুর রহমানকে ৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন মিজানুল ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম।

ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করা, আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে ‘অভ্যন্তরীণ বন্দোবস্ত’ থাকার অভিযোগ এবং প্রসিকিউশন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য—এই তিন বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। প্রথম শুনানি হয় ২৬ নভেম্বর এবং ৩০ নভেম্বর বাকি অংশ শেষে তাকে ব্যাখ্যার জন্য তলব করা হয়।

২৩ নভেম্বর বেসরকারি টিভি চ্যানেল টোয়েন্টিফোর–এর ‘মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ৪৯ মিনিটের এ টকশোর ভিডিও প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে এবং কিছু অংশ আদালতে বাজিয়েও শোনানো হয়।

টকশোতে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই বলছি এই কোর্ট মানি না… এই আদালতে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।’ তিনি প্রসিকিউশনের সবাইকে শিবির–সমর্থিত বলেও দাবি করেন। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। শুনানিতে তার রাজনৈতিক পরিচয়ও তুলে ধরা হয়।

তামিম যখন বলেন যে ট্রাইব্যুনাল রাজাকারদের বিচার করতে গঠিত হয়েছিল, তখন ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করে জানায় যে এ আইন ১৯৭৩ সালে প্রণীত এবং এর অধীনে ১৯৭৩ সালের আগে ও পরের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে। প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভিডিও পর্যালোচনার পর মন্তব্যগুলোকে গুরুতর বলে আখ্যা দিয়ে আজকের দিন শুনানির জন্য ধার্য করা হয়। এরপর ফজলুর রহমানকে ৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here