Home এশিয়া পেসিফিক বৃদ্ধদের দীর্ঘ অপেক্ষা, চাপে অস্ট্রেলিয়ার এজড কেয়ার ব্যবস্থা

বৃদ্ধদের দীর্ঘ অপেক্ষা, চাপে অস্ট্রেলিয়ার এজড কেয়ার ব্যবস্থা

70
0

অস্ট্রেলিয়ায় বয়স্ক নাগরিকদের জন্য এজড কেয়ার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত নতুন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রবীণ নাগরিকদের গড়ে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে হোম কেয়ার প্যাকেজ পাওয়ার জন্য। অন্যদিকে, কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা আবাসিক এজড কেয়ার সেবায় স্থান পেতে গড়ে সময় লাগছে ৩৯৬ দিন।

নতুন এই তথ্য এমন সময় সামনে এলো, যখন সম্প্রতি ঘোষিত ফেডারেল বাজেটে অতিরিক্ত “Support at Home” প্যাকেজের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। যদিও সরকার জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ৩২ হাজার নতুন প্যাকেজ চালু করা হবে। এটি সরকারের পূর্বঘোষিত ১০ বছরে ৩ লাখ প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ।

তবে সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান চাহিদা পূরণে সরকার যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিবছর মাত্র ৫ হাজার নতুন এজড কেয়ার বেড বরাদ্দ করা হচ্ছে, যেখানে প্রকৃত প্রয়োজন এর দ্বিগুণেরও বেশি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ “ট্রায়াজ” অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। অর্থাৎ, তারা এখনো প্রাথমিক মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছেন যাতে পরবর্তীতে মূল অপেক্ষমাণ তালিকায় যুক্ত হতে পারেন।

এছাড়াও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য অনুপস্থিত ছিল। যেমন— কতজন মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছেন এবং কতজন মূল্যায়নের পরও প্যাকেজের অপেক্ষায় রয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুই তালিকায় সম্মিলিতভাবে অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার।

রাজ্যভিত্তিক গড় অপেক্ষার সময়ও উদ্বেগজনক। নিউ সাউথ ওয়েলসে গড়ে ৩৫৮ দিন, ভিক্টোরিয়ায় ৩৫৪ দিন এবং কুইন্সল্যান্ড ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ৩৭৪ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অপেক্ষার সময় দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে, যেখানে গড় সময় ৩৮৬ দিন।

গত বছর জানা গিয়েছিল, প্রয়োজনীয় হোম কেয়ার সেবা পাওয়ার আগেই প্রায় ৫ হাজার প্রবীণ নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্বতন্ত্র সিনেটর David Pocock সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, এজড কেয়ার মন্ত্রী Sam Rae এপ্রিলের শেষ দিকে এই তথ্য হাতে পেলেও বাজেটের দিন পর্যন্ত তা প্রকাশ করেননি।

পোকক বলেন, সরকার বাজেটের ব্যস্ততার মধ্যে এই নেতিবাচক তথ্য “চাপা দেওয়ার” চেষ্টা করেছে। তার মতে, এক বছরের গড় অপেক্ষা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এর ফলে হাজারো প্রবীণ রোগী হাসপাতালেই আটকে থাকছেন, কারণ তারা প্রয়োজনীয় এজড কেয়ার সেবা পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় শ্যাডো এজড কেয়ার মন্ত্রী Anne Ruston অভিযোগ করেন, নতুন বাজেটে অতিরিক্ত কোনো প্যাকেজ না থাকায় সংকট আরও গভীর হবে। তার ভাষায়, “প্রবীণরা হয় বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য হবেন, নয়তো অপেক্ষার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করবেন।”

এদিকে প্রবীণদের সংগঠন COTA Australia-এর প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিসিয়া স্প্যারোও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা শুধু প্রবীণদের নয়, তাদের পরিবার ও সেবাদাতাদের ওপরও বড় মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকার অবশ্য দাবি করছে, ২০২৭ অর্থবছরের শেষে মোট প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ হোম কেয়ার প্যাকেজ সুবিধার আওতায় আসবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here