ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স ক্লাব বিশ্বকাপে বড় একটি চমক দেখিয়েছে। তারা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ইন্টার মিলানকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
এখন তাদের প্রতিপক্ষ হবে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারানো সৌদি ক্লাব আল-হিলাল।
ম্যাচের শুরুতে মাত্র তিন মিনিটে ফ্লুমিনেন্সকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার জার্মান কানো। তিনি এক দারুণ নিচু হেডে গোল করেন। এরপর বেশ কিছু সময় বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইন্টার মিলান, তবে গোলের দেখা পায়নি তারা।
ম্যাচের শেষদিকে ইন্টার সমতায় ফেরার চেষ্টা করছিল, তবে তখনই বাজিমাত করে ফ্লুমিনেন্স। বদলি খেলোয়াড় হারকিউলিস ২৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন, যা ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির জয় নিশ্চিত করে দেয়।
ইন্টার মিলানের লওতারো মার্তিনেজ একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন, একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফেদেরিকো দিমারকোর দুটি ফ্রি-কিক এবং কাছ থেকে নেওয়া শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সবচেয়ে বড় সুযোগটি হাতছাড়া করেন ডাচ ডিফেন্ডার স্টেফান ডি ফ্রেই।
ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের শার্লট শহরের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ৭৪ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ছিল মাত্র ২০ হাজার দর্শক, তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উপস্থিতি এবং গর্জন পুরো মাঠকে যেন ফ্লুমিনেন্সের ঘরের মাঠে পরিণত করে।
এই জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল দুই ব্রাজিলিয়ান ক্লাব—পালমেইরাস এবং ফ্লুমিনেন্স। তাদের পরবর্তী ম্যাচটি শুক্রবার অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে, আল-হিলালের বিপক্ষে।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাবগুলোর জন্য এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ইউরোপিয়ানদের তুলনায় অনেক বেশি, তাই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ানরা ব্যাপক উদযাপন করেছে। আবহাওয়া, মাঠের মান এবং সমর্থকদের আধিপত্য—সব মিলিয়ে লাতিন দলগুলো এই আসরে স্পষ্টতই সুবিধায় রয়েছে।
ইন্টার মিলানের কোচ ক্রিস্টিয়ান চিভুর প্রথম ম্যাচে কিছু পরিবর্তন করলেও, দলটি ছিল ছন্দহীন। লওতারো মার্তিনেজ কিছুটা আলো ছড়ালেও, তার সঙ্গী মার্কুস তুরাম ছিলেন নিষ্প্রভ।
ফ্লুমিনেন্সের জন্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী গোলকিপার ফাবিও, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা এবং ফরোয়ার্ড জন আরিয়াস।










