Home খেলা ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আধিপত্য, ছিটকে পড়েছে আর্জেন্টিনার দুই জায়ান্ট

ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আধিপত্য, ছিটকে পড়েছে আর্জেন্টিনার দুই জায়ান্ট

160
0

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে তখন খেলার শেষ মুহূর্ত। রিভারপ্লেট ২-০ গোলে পিছিয়ে, বিদায় প্রায় নিশ্চিত। গ্যালারিতে থাকা রিভার সমর্থকদের চেহারায় যদিও হারের কোনো হতাশা ধরা পড়ছিল না—তারা তখনো প্রাণভরে গান গাইছিলেন। পাশে বসা এক ইতালিয়ান সাংবাদিক মুগ্ধ হয়ে বললেন, “বেলিস্মা, মেরাভিলিওসো—এ রকম আবেগ আগে কখনও দেখিনি।”

তবে মাঠে তখন পরিস্থিতি ভিন্ন। হঠাৎ করেই রিভারপ্লেট খেলোয়াড়রা হার মেনে নয়, যেন রণমূর্তি নিয়ে খেলায় ফিরে এলেন—তবে তা কৌশলের বদলে বিশৃঙ্খলায়। গঞ্জালো মোন্তিয়েল লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, আর বাকিরা কেউ কম ছিলেন না। এমনকি ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই দৃশ্য শুধু রিভারের বিদায়ের নয়, বরং আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলের একটা প্রতীকী ব্যর্থতার প্রতিফলন। মাঠে যতটা নিস্তেজ, গ্যালারিতে ঠিক ততটাই আবেগে ভরা—এ যেন আর্জেন্টিনার ফুটবল বাস্তবতার এক উল্টো প্রতিচ্ছবি।

বোকা জুনিয়র্সের সমর্থকেরাও কম যাননি। ক্লাব বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাদের উন্মাদনা নজর কেড়েছিল। যদিও দল মাঠে তেমন কিছু দেখাতে পারেনি—অকল্যান্ড সিটির মতো অর্ধপেশাদার ক্লাবের বিপক্ষেও জয় না পাওয়াটা হতাশাজনক।

রিভারপ্লেটের ছিল শেষ রাউন্ডে জয়ের সুযোগ, বোকা আগেই বাদ পড়ায় তাদের বাড়তি প্রেরণাও ছিল। তবে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে তারা হতাশই করেছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাবেই হেরেছে রিভার।

আর বোকার ব্যর্থতা ছিল অনেকটাই অনুমেয়। অভিজ্ঞ কোচ মিগুয়েল রুসোকে হুট করে ফিরিয়ে আনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল শুরু থেকেই। প্রেসিডেন্ট হুয়ান রোমান রিকেলমের আবেগের জায়গা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হয়নি।

রিভার তুলনায় কিছুটা গোছানো দল হলেও ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা ও কৌশলগত ঘাটতিতে থেমে গেছে তাদের পথ। প্রশ্ন উঠছে: ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর বিকল্প কে? কোচ গায়ার্দোর আগের সেই প্রেরণা কি এখনো আছে?

এই প্রশ্ন শুধু দুটি ক্লাবের জন্য নয়, বরং আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলের সামগ্রিক চিত্র। সেই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দক্ষিণ আমেরিকায় শক্তির ভারসাম্য এখন ব্রাজিলের পক্ষে

বর্তমানে ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চারটি ক্লাবই পৌঁছেছে শেষ ষোলোতে। আর কোপা লিবার্তাদোরেসের গত ছয় বছরের শিরোপা জিতেছে কেবল ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো—এর মধ্যে চারবার ফাইনাল হয়েছে ব্রাজিলিয়ান দলগুলোর মধ্যেই।

অথচ ঐতিহ্যের দিক দিয়ে বোকা ও রিভার দক্ষিণ আমেরিকার গর্ব। কিন্তু ঐতিহ্য দিয়ে বর্তমানকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো যেখানে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপে এগিয়ে, সেখানে অনেক আর্জেন্টাইন ক্লাব এখনও চলে সমর্থক গোষ্ঠীর প্রভাব ও আবেগের ভিত্তিতে—যা মাঠের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে সব আলো নিভে যায়নি। রেসিং ক্লাব এখনো ভালো করছে, আর জাতীয় দল তো বিশ্বজয়ী।

তবুও, ক্লাব বিশ্বকাপে রিভার ও বোকার ব্যর্থতা একটা বড় বার্তা—গ্যালারির গর্জন যতই জোরালো হোক, মাঠে ফল দিতে হলে চাই শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও আধুনিক ফুটবলের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। ব্রাজিল যখন ইউরোপের ব্যবধান কমাচ্ছে, আর্জেন্টিনার দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব তখন যেন সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here