Home খেলা পার্টটাইম ফুটবলারদের বিপক্ষে গোলবন্যায় বায়ার্ন, মুসিয়ালার হ্যাটট্রিক

পার্টটাইম ফুটবলারদের বিপক্ষে গোলবন্যায় বায়ার্ন, মুসিয়ালার হ্যাটট্রিক

162
0

ক্লাব বিশ্বকাপ ২০২৫-এর গ্রুপ ‘সি’ ম্যাচে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ রীতিমতো গোলবৃষ্টি করেছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটির বিপক্ষে। রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বায়ার্নের তারকা খেলোয়াড়রা একের পর এক গোল করে ম্যাচটিকে একতরফা করে তোলেন।

সাচা বোয়ে, মাইকেল ওলিস, থমাস মুলার এবং জামাল মুসিয়ালা- সবাই গোলের দেখা পান। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেইনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ২২ বছর বয়সী মুসিয়ালা হ্যাটট্রিক করেন, যা ম্যাচের অন্যতম হাইলাইট হয়ে ওঠে।

এছাড়া, থমাস মুলার এই ম্যাচে গোল করে বায়ার্নের হয়ে ২৫০তম গোলের মাইলফলকে পৌঁছান, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি গৌরবময় অর্জন।

ম্যাচজুড়ে বায়ার্ন মোট ১৭টি শট গোলবারে রাখতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে অকল্যান্ড সিটি মাত্র একবার বায়ার্নের গোলবার লক্ষ করে শট নিতে পারে, যেটি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন।

এমন একতরফা ম্যাচ কেবল ফলাফলের দিক থেকেই নয়, বরং ইউরোপ ও ওশেনিয়া ফুটবলের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধানের প্রতিফলনও বটে।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচটি

এ ম্যাচটি ক্লাব বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল হওয়া ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও বায়ার্ন অতীতেও দ্বি-অঙ্ক গোলের রেকর্ড গড়েছে—১৯৭১ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ১১-১ ও ২০২১ সালে ব্রেমার এসভিকে ১২-০ গোলে হারিয়ে। সবচেয়ে বড় জয় এসেছিল ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে—ডিজেকে ওয়াল্ডবার্গকে ১৬-১ গোলে হারিয়ে। অকল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দেখে মনে হচ্ছিল সেই রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

এক পেশাদার বনাম অপেশাদার দলের লড়াই

অকল্যান্ড সিটির খেলোয়াড়রা বেশিরভাগই পার্টটাইম ফুটবলার। কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ বিমা কোম্পানির কর্মচারী, কেউ কোকা-কোলার সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, আবার কেউ গাড়ি বিক্রেতা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

দলের ২২ বছর বয়সী লেফটব্যাক নাথান লোবো ক্লাব বিশ্বকাপে খেলতে এসেও ভার্চুয়াল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গোলরক্ষক কনল ট্রেসি বলেন, “এই টুর্নামেন্টে খেলতে আমি আমার অফিস থেকে বেতনহীন ছুটি নিয়েছি। বাসাভাড়া দেওয়াও চ্যালেঞ্জ হবে এবার। কিন্তু বায়ার্ন, বেনফিকা বা বোকা জুনিয়র্সের মতো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।”

অর্থনৈতিক বৈষম্য স্পষ্ট

দুই দলের আর্থিক পার্থক্যও চোখে পড়ার মতো।

  • অকল্যান্ড সিটির মৌসুমিক আয় ছিল মাত্র ৪.৮৮ লাখ পাউন্ড, যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ আয় করেছে ৯৫১.৫ মিলিয়ন ইউরো।
  • অকল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ বেতন ৬৬ পাউন্ড, অন্যদিকে বায়ার্নের তারকা হ্যারি কেইনের সপ্তাহপ্রতি আয় ৪ লাখ পাউন্ড।
    অর্থাৎ, অকল্যান্ডের একজন সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড়কে কেইনের এক সপ্তাহের আয় অর্জন করতে ১১৭ বছর সময় লাগবে।

ট্রান্সফারমার্কেট অনুযায়ী,

  • অকল্যান্ড সিটির দলটির মার্কেট ভ্যালু মাত্র ৪.৫৮ মিলিয়ন ইউরো,
  • আর বায়ার্ন মিউনিখের ৯০৩.৫ মিলিয়ন ইউরো।

এই সব পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সের পার্থক্যই দেখিয়ে দেয়, কেন এই ম্যাচটি শুধুই একটি গোল উৎসব নয়, বরং পেশাদার বনাম অপেশাদার ফুটবলের এক অনন্য তুলনাচিত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here