অস্ট্রেলিয়ার Australian Labor Party সরকার নতুন বাজেটে ডিসক্রিশনারি ফ্যামিলি ট্রাস্ট ও “বাকেট কোম্পানি” লক্ষ্য করে বড় কর পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ কার্যত অস্ট্রেলিয়ার বহুল ব্যবহৃত পারিবারিক সম্পদ ও ব্যবসা কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেট অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসক্রিশনারি ট্রাস্টের আয়ের ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। ব্যক্তি পর্যায়ের সুবিধাভোগীরা ট্রাস্টের পরিশোধিত করের বিপরীতে সীমিত কর ক্রেডিট পেলেও করপোরেট সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান বা “বাকেট কোম্পানি” সেই সুবিধা হারাবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে একই আয়ের ওপর কার্যত দ্বৈত করের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে বহু পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বাকেট কোম্পানি কাঠামো আর আর্থিকভাবে লাভজনক থাকবে না।
কিছু বিশ্লেষকের হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানির মাধ্যমে বিতরণ করা আয়ের কার্যকর করহার ৫০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। আবার পরবর্তীতে সেই লাভ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হলে মোট করহার ৬২.৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ট্রেজারার Jim Chalmers সরকারের এই নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, ডিসক্রিশনারি ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে ধনী পরিবার ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের এমন কর সুবিধা দিয়েছে যা সাধারণ বেতনভোগী মানুষ পান না।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক ব্যবসা, কৃষি খামার, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর মধ্যে ডিসক্রিশনারি ট্রাস্ট অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই কাঠামো আয় ভাগাভাগি, সম্পদ সুরক্ষা, উত্তরাধিকার পরিকল্পনা এবং কর ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা দেয়।
অনেক পরিবার নিম্ন আয়ের সদস্যদের মধ্যে আয় বণ্টন করে কম কর দেয় অথবা কোম্পানির মাধ্যমে লাভ ধরে রেখে কম করপোরেট করহার সুবিধা নেয়।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার এখন সরাসরি পরিবারভিত্তিক সম্পদ গঠন ও বেসরকারি ব্যবসা কাঠামোর ওপর আঘাত হানছে।
বিভিন্ন আইনজীবী ও হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান সতর্ক করেছে যে, এই নীতির কারণে অস্ট্রেলিয়ার অসংখ্য পারিবারিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ কাঠামোতে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে।
অনেকে এই নীতিকে ২০১৯ সালের লেবার সরকারের বিতর্কিত ফ্র্যাঙ্কিং ক্রেডিট নীতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, এটি ঐতিহ্যগত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর আরেকটি বড় আঘাত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ডিসক্রিশনারি ট্রাস্ট এই পরিবর্তনের আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।
প্রভাব কমাতে সরকার তিন বছরের একটি অস্থায়ী “রোলওভার রিলিফ” সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসাগুলো ধীরে ধীরে তাদের কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। কেউ বলছেন, ট্রাস্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ধনী পরিবারগুলো অন্যায্য কর সুবিধা ভোগ করেছে, তাই সংস্কার প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে বিরোধীরা সতর্ক করেছেন, নতুন নিয়ম বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে, জটিলতা বাড়াবে এবং ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর ওপর আরও বোঝা চাপাবে।










