অস্ট্রেলিয়ার Australian Labor Party সরকার ফ্যামিলি ট্রাস্ট ও ফ্র্যাঙ্কিং ক্রেডিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন এই কর সংস্কার ধনী পরিবার, কৃষি ব্যবসা, বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটে ঘোষিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসক্রিশনারি ট্রাস্টের ওপর নতুন ন্যূনতম ৩০ শতাংশ করব্যবস্থা চালু হবে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো— “বাকেট কোম্পানি” নামে পরিচিত করপোরেট সুবিধাভোগীরা আর ট্রাস্টের মাধ্যমে দেওয়া ফ্র্যাঙ্কিং ক্রেডিট সুবিধা পাবেন না।
বর্তমানে অনেক পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট কাঠামোর মাধ্যমে আয় ভাগ করে কম কর দেওয়ার সুযোগ নেয়। বিশেষ করে উচ্চ আয়ের পরিবার ও ব্যবসায়ীরা “বাকেট কোম্পানি” ব্যবহার করে লাভের একটি অংশ কম করের করপোরেট হারে ধরে রাখেন, যাতে ব্যক্তিগত উচ্চ করহার এড়ানো যায়।
কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ট্রাস্টের মাধ্যমে আগে যে কর পরিশোধ করা হতো, তা আর কোম্পানির কর দায় কমাতে ব্যবহার করা যাবে না। ফলে একই আয়ের ওপর কার্যত দ্বৈত করের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ফ্যামিলি ট্রাস্ট কাঠামোর কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যাবে। অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর করহার ৫০ শতাংশেরও বেশি, এমনকি ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে— বিশেষ করে যখন সেই লাভ পরে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
আইনজীবী ও হিসাবরক্ষকরাও সতর্ক করেছেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার বেসরকারি ব্যবসা খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ট্রেজারার Jim Chalmers এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ডিসক্রিশনারি ট্রাস্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ধনী অস্ট্রেলিয়ানরা এমন কর সুবিধা পাচ্ছেন যা সাধারণ বেতনভোগী মানুষ পান না।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রথম বছরেই প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।
এই সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ায় আবারও ফ্র্যাঙ্কিং ক্রেডিট বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি ২০১৯ সালে লেবার সরকারের বিতর্কিত ফ্র্যাঙ্কিং ক্রেডিট ফেরত নীতির পুনরাবৃত্তির মতো।
যদিও চ্যালমার্স দাবি করেছেন, সরকার পুরনো নীতি ফিরিয়ে আনছে না, তবুও অনেক বিনিয়োগকারী ও কর উপদেষ্টা মনে করছেন এটি ধনী ব্যক্তি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর আরও কঠোর কর আরোপের ইঙ্গিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক মহলেও এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। কেউ এই পদক্ষেপকে পরিবারভিত্তিক সম্পদ গঠন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ডিসক্রিশনারি ট্রাস্ট মূলত উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য অন্যায্য কর সুবিধা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কর সংস্কার আগামী বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক ব্যবসা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।










