Home এশিয়া পেসিফিক ইসরায়েলবিরোধী পোস্টার ঘিরে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত, আতঙ্কে ইহুদি শিক্ষার্থীরা

ইসরায়েলবিরোধী পোস্টার ঘিরে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত, আতঙ্কে ইহুদি শিক্ষার্থীরা

23
0

অস্ট্রেলিয়ার University of Sydney-এ ইসরায়েলবিরোধী পোস্টার ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পেয়েছে যে কিছু পোস্টারে এমন প্রতীক ও চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা সহিংসতার প্রতি উসকানি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিতরণ করা পোস্টারগুলোতে “হান্দালা” নামের একটি কার্টুন চরিত্র ব্যবহার করা হয়। চরিত্রটি সাধারণত খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে পেছন দিক থেকে দেখানো অবস্থায় চিত্রিত করে। পোস্টারগুলোতে লাল রঙের দাগ বা ছোপও ছিল, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রো-প্যালেস্টাইন কর্মীরা হান্দালাকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও বাস্তুচ্যুতির প্রতীক হিসেবে দেখলেও ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশ দাবি করছে, কিছু ক্ষেত্রে এই প্রতীক চরমপন্থী বক্তব্য বা সহিংসতাকে সমর্থনকারী বার্তার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, পোস্টারগুলোতে ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে “অ্যাপারথেইডের অংশ” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও এগুলো বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের ভাষা ও উপস্থাপন “সমষ্টিগত দোষারোপের” ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ইসরায়েলি বা ইহুদি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পোস্টারে ব্যবহৃত লাল দাগগুলো “রক্ত বা গুলির ছিটা” হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যা সহিংসতার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন বা উসকানি হিসেবে দেখা হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বহিষ্কারের মুখেও পড়তে পারেন।

এদিকে আরেক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে “Globalise the Intifada” শীর্ষক একটি বিতর্কিত ফোরামের পোস্টার বিতরণ করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইহুদি শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো।

Australasian Union of Jewish Students-এর প্রতিনিধি লিয়াত গ্রানট বলেন, “Globalise the Intifada” ধরনের স্লোগানের ব্যবহার সম্প্রতি অনেক বেড়েছে এবং এতে ইহুদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে।

তার দাবি, “ইহুদি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। সমস্যাটি প্রতিষ্ঠানগতভাবে স্বীকৃত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা খুব কম দেখা যাচ্ছে।”

অন্যদিকে Australian Jewish Association-এর প্রধান নির্বাহী রবার্ট গ্রেগরি বলেন, “ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ইহুদি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এখন আবার কিছু গোষ্ঠী ইহুদি রাষ্ট্র থেকে আসা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, শিশু বা কার্টুনচিত্র ব্যবহার করে চরমপন্থী ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা চালানো সাম্প্রতিক সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা চলমান তদন্ত বা নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে ক্যাম্পাসকে সবার জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাগতপূর্ণ রাখার জন্য অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কেউ যদি বৈষম্যমূলক, ইহুদিবিদ্বেষী বা হয়রানিমূলক আচরণ প্রত্যক্ষ করেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা জানাতে পারবেন এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here