অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে সম্পত্তি বিনিয়োগে নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা সীমিত করার সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির বৃহত্তম ব্যাংক Commonwealth Bank। নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত বা পুরনো সম্পত্তিতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেগেটিভ গিয়ারিং বাতিলের প্রভাব বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় ছয়বার সুদের হার বৃদ্ধির সমান হতে পারে।
ফেডারেল ট্রেজারার Jim Chalmers মঙ্গলবার রাতের বাজেটে নতুন এই কর পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোর হয়নি, ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে Reserve Bank of Australia-কে আরও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
কমনওয়েলথ ব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ট্রেন্ট সন্ডার্স বলেন, “নেগেটিভ গিয়ারিং বাতিলের ফলে বিনিয়োগকারীদের নগদ প্রবাহে যে চাপ পড়বে, তা প্রায় ৯০ থেকে ১৫৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বৃদ্ধির সমতুল্য।”
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ভাড়ার আয় বা সম্পত্তি বিক্রির মুনাফার বিপরীতে ক্ষতির হিসাব সমন্বয় করার সুযোগ থাকছে। কিন্তু এই সুবিধা তাৎক্ষণিক নগদ সংকট দূর করতে পারবে না এবং বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ব্যয় সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, যারা নেগেটিভ গিয়ারিংয়ের সুবিধা ধরে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের এখন আরও বেশি মুনাফা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে সরকার ৫০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) ডিসকাউন্ট পদ্ধতি থেকে সরে গিয়ে মূল্যস্ফীতিনির্ভর কর ব্যবস্থায় যাওয়ায় উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কর পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক বছরে বাড়ির দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। তবে এর মাধ্যমে সরকার বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে।
এদিকে কমনওয়েলথ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ Luke Yeaman বলেছেন, বাজেটে কিছু সাশ্রয়ী পদক্ষেপ থাকলেও সামগ্রিকভাবে এখনও অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।
তার ভাষায়, “মূল্যস্ফীতি এখনও অনেক বেশি। এই অবস্থায় চাহিদা কমাতে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও সুদের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়ে গেছে।”
বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যেখানে রিজার্ভ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২.৫ শতাংশ।
অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান William Buck-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ Besa Deda বলেন, “সরকার এখনও অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা যোগ করছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যয়নীতি প্রয়োজন ছিল।”
অন্যদিকে Nomura Australia-এর অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু টাইসহার্স্টের মতে, বাজার এখন জুনে আরও একটি সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ২৪ শতাংশ ধরে নিচ্ছে। বছরের শেষে অন্তত আরও একটি, এমনকি দুটি হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
সরকারি বাজেট নথিতে আরও বলা হয়েছে, নেগেটিভ গিয়ারিং ও CGT পরিবর্তনের ফলে আগামী এক দশকে প্রায় ৩৫ হাজার কম বাড়ি নির্মিত হতে পারে।
এই পরিবর্তনের মধ্যেই আবাসন ঋণ অনুমোদনের হারও কমতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন আবাসন ঋণের সংখ্যা ৬ শতাংশ কমেছে।
Westpac-এর অর্থনীতিবিদ নেহা শর্মা বলেন, নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার জন্য বিনিয়োগ ঋণে ১৬.১ শতাংশ পতন হয়েছে, যা রেকর্ড দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন সম্পত্তি করনীতির সম্মিলিত প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।










