অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেট ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেই ক্ষোভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে Pauline Hanson’s One Nation দলের দিকে।
নিউজ কর্প পরিচালিত অনলাইন জরিপে ৫৫ হাজারের বেশি পাঠক অংশ নেন। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫০ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী ফেডারেল নির্বাচনে তারা ওয়ান নেশনকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভোট দেবেন। মাত্র ৭ শতাংশ লেবার পার্টির পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ৪০ শতাংশ সমর্থন করেছেন কোয়ালিশনকে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ট্রেজারার Jim Chalmers ঘোষিত নতুন বাজেট তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে নেগেটিভ গিয়ারিং, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) এবং সম্পত্তি বিনিয়োগে কর পরিবর্তন নিয়ে জনমনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এখন তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। অন্যদিকে ২১ শতাংশ সরাসরি নেগেটিভ গিয়ারিং ও ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স পরিবর্তনকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ মানুষ বাজেটকে তাদের জীবনের ওপর “খুব খারাপ” প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন। আরও ৩৭ শতাংশ একে “খারাপ” হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
এদিকে নতুন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরনো বা প্রতিষ্ঠিত সম্পত্তিতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা বাতিলের প্রভাব বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় ছয়বার সুদের হার বৃদ্ধির সমান হতে পারে।
দেশটির বৃহত্তম ব্যাংক Commonwealth Bank-এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ট্রেন্ট সন্ডার্স বলেন, “নেগেটিভ গিয়ারিং বাতিলের ফলে বিনিয়োগকারীদের নগদ প্রবাহে এমন চাপ তৈরি হবে, যা প্রায় ৯০ থেকে ১৫৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বৃদ্ধির সমতুল্য।”
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে সম্পত্তি থেকে আয় বা মূলধনী মুনাফার বিপরীতে ক্ষতির হিসাব সমন্বয় করার সুযোগ থাকলেও তাৎক্ষণিক নগদ চাপ কমবে না।
সরকারি ট্রেজারি হিসাব অনুযায়ী, নেগেটিভ গিয়ারিং ও CGT পরিবর্তনসহ নতুন কর ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী এক দশকে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। তবে একই সময়ে প্রায় ৩৫ হাজার কম বাড়ি নির্মিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজেট ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগের মুখে পড়েছেন। কারণ নির্বাচনের আগে লেবার পার্টি নেগেটিভ গিয়ারিং পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
তবে Anthony Albanese এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় তরুণ ক্রেতারা বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় বড় অসুবিধার মুখে পড়ছেন।
তার ভাষায়, “তরুণদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থা তাদের জন্য কাজ করছে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন কর ব্যবস্থার এই বড় পরিবর্তন শুধু সম্পত্তি বাজারেই নয়, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, সুদের হার এবং করনীতি নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ আগামী নির্বাচনে ভোটের হিসাব বদলে দিতে পারে।










