মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে অস্ট্রেলিয়া তার সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে Anthony Albanese সরকার।
নতুন বাজেট অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া ছয়টি অত্যাধুনিক Hunter-class frigate যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে গতি বাড়াচ্ছে। এই প্রকল্পে অতিরিক্ত ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদ করতে আন্তর্জাতিক অভিযানে অংশ নিতে হয়, তাহলে এই ফ্রিগেটগুলো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ অস্ত্র হবে।
একই সঙ্গে AUKUS security pact পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে আগামী পাঁচ বছরে আরও ১২.৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এসব সাবমেরিন নির্মাণ করা হবে।
বাজেটে আরও ঘোষণা করা হয়েছে, অতিরিক্ত ছয়টি Arafura-class Offshore Patrol Vessel টহল জাহাজ যুক্ত করা হবে। এছাড়া আধুনিক ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ প্রযুক্তির উন্নয়নও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Ghost Bat মানববিহীন যুদ্ধবিমান এবং Ghost Shark স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন প্রযুক্তি। গোষ্ট শার্ক প্রকল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে Anduril Industries এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও শুরু করতে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
বাজেটে আরও ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে F-35A Lightning II যুদ্ধবিমান উন্নয়নের জন্য। পাশাপাশি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে নতুন হ্যাকিং-প্রতিরোধী প্রতিরক্ষা ক্লাউড নেটওয়ার্ক তৈরিতে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Richard Marles-এর নেতৃত্বে সরকার বলছে, শুধু ব্যয় বাড়ানো নয়, দ্রুত ও কার্যকরভাবে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “অস্ট্রেলিয়াকে নিরাপদ রাখতে প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বিনিয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করবে।”
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে Australian Defence Force-এ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে সদস্য সংখ্যা ৬১ হাজার ৭১১ জন। আগামী চার বছরে তা বাড়িয়ে প্রায় ৬৭ হাজার ৫০০-তে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা পুরো ফেডারেল বাজেটের ৬.২ শতাংশ।
তবে বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়লেও বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, AUKUS কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ব্যয় অন্য সামরিক খাতকে চাপে ফেলতে পারে।
এদিকে সাবেক সেনা সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফিজিওথেরাপি, পডিয়াট্রি এবং স্পিচ প্যাথলজিসহ বিভিন্ন সহযোগী স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সীমা আরোপের মাধ্যমে আগামী চার বছরে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ঘাঁটি বিক্রি এবং PFAS রাসায়নিক দূষণজনিত ক্ষতিপূরণ মামলার কারণে ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় Papua New Guinea-এর নিরাপত্তা জোরদারে ৬০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখার অংশ।










