অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান Healius তাদের আয় পূর্বাভাস বড়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় কম প্যাথলজি পরীক্ষা, মূল্যচাপ এবং ডায়াগনস্টিক ব্যবসায় দুর্বল বাজার পরিস্থিতির কারণে মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশেষায়িত মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক বিভাগ Agilex Biolabs বিক্রির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে। কোম্পানির মতে, এই বিক্রি ঋণের চাপ কমাতে এবং মূল ব্যবসায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে সহায়তা করবে।
বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরে কোম্পানির আয় আগের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক নিচে থাকতে পারে। এতে অস্ট্রেলিয়ার প্যাথলজি খাতের লাভজনকতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হিলিয়াসের কর্মকর্তারা বলেন, পরীক্ষার চাহিদা কমে যাওয়া, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি এবং কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশ তাদের মুনাফার মার্জিনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিশেষ করে কোম্পানির প্যাথলজি বিভাগ, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান আয়ের উৎস ছিল, এখনো মহামারির পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যাপক টেস্টিংয়ের কারণে স্বাস্থ্যখাতের ডায়াগনস্টিক ব্যবসাগুলো বড় আয় করেছিল। কিন্তু এখন কোভিড-সম্পর্কিত পরীক্ষার চাহিদা দ্রুত কমে যাওয়ায় সেই আয় প্রায় হারিয়ে গেছে।
কোম্পানির নির্বাহীরা স্বীকার করেছেন, সাধারণ বা নন-কোভিড পরীক্ষার সংখ্যা এতটা বাড়েনি যে তা মহামারিকালীন আয়ের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে হিলিয়াস তাদের ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে Agilex Biolabs বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও বায়োঅ্যানালিটিক্যাল গবেষণাগার সেবা প্রদান করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি ঋণ কমিয়ে মূল প্যাথলজি ও মেডিক্যাল ইমেজিং ব্যবসায় মনোযোগ বাড়াতে চায়।
ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক বছর কোম্পানির আয় ও মুনাফার ওপর আরও চাপ থাকতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারির সময় অতিরিক্ত আয় পাওয়া বহু স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানি এখন নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়ার কঠিন পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। কোভিড-পরবর্তী স্বাভাবিক বাজারে ফিরে আসার এই পরিবর্তন অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের মতে, হিলিয়াসের সাম্প্রতিক ঘোষণা দেখিয়ে দিচ্ছে যে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডায়াগনস্টিক খাতে এখন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা পুনর্গঠন এবং নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।










