ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় কারাবন্দি এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আদালতের অনুমতিতে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। পুলিশি পাহারায় এবং হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় তিনি জানাজায় উপস্থিত হন। পরে নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, শাহ আলম খন্দকার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বর্তমানে একটি সহিংসতা-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ আলমের মা হালিমা বেগম (৭৫) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করে শাহ আলমকে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য সাময়িক প্যারোলে মুক্তির অনুমতি চাওয়া হয়।
আদালত আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে তাঁকে নিজ গ্রাম নুরপুরে আনা হয়।
বাদ জোহর নুরপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ মাঠে হালিমা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শাহ আলম হাতকড়া পরা অবস্থায় জানাজায় অংশ নেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে তাঁর মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেন।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হালিমা বেগমকে দাফন করা হয়। দাফন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেলের দিকে শাহ আলমকে পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সীমিত সময়ের জন্য শাহ আলমকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি তাঁর মায়ের জানাজায় অংশ নিতে পারেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তাঁকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শাহ আলম বর্তমানে একটি সহিংসতার মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে তাঁকে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।











