Home বাংলাদেশ National নারীদের নিরাপদ সাইবার স্পেস ও আইনের অপব্যবহার রোধে সংসদে জোর দাবি

নারীদের নিরাপদ সাইবার স্পেস ও আইনের অপব্যবহার রোধে সংসদে জোর দাবি

23
0

ঢাকা: সাইবার জগতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার আইন যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক হয়রানি বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়—এ দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আলোচনা শেষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। ওই ধারায় অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান ছিল। সরকার জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে এ-সংক্রান্ত অপরাধের বিস্তারিত সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকায় পুরোনো আইনের ধারাটি আর প্রয়োজন নেই।

বিলের ওপর আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, জনপরিচিত ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিং, হয়রানি এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতি করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

তিনি বলেন, রাজনীতি, গণমাধ্যম কিংবা জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত নারীদের জন্য সাইবার স্পেস ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই নারীদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদকে কেন্দ্র করে বিরোধী মতের নারী বা পুরুষকে সাইবার হয়রানির লক্ষ্যবস্তু বানানো ভবিষ্যতে সবার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, অতীতে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী এবং সরকারের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইন ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। নতুন আইনের ক্ষেত্রেও যাতে একই ধরনের অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একই দলের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধ দমন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সেই সঙ্গে নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং সাংবিধানিক স্বাধীনতাও সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক আইন প্রয়োজন। তবে সেই আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা তৈরি না করে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও আইনটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নারীর নিরাপত্তাসহ সমাজের সার্বিক সুরক্ষার জন্য কার্যকর সাইবার আইন প্রয়োজন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে আইনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, চরিত্রহনন, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মতো অপরাধ মোকাবিলায় সরকার আলাদা আইনগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ভবিষ্যতে আরও সংশোধনী বা নতুন আইন আনা হতে পারে।

সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়া সদস্যদের অভিমত, ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই আইনের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবাধিকারসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here