Home বাংলাদেশ ব্যয় সাশ্রয়ে বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সরকারের সাশ্রয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা

ব্যয় সাশ্রয়ে বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সরকারের সাশ্রয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা

22
0

ঢাকা: ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাসের পর অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ এবার বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজন করা হয়নি। এর ফলে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের আয়োজন থেকে সরে এসেছে সরকার।

আতিকুর রহমান রুমন দাবি করেন, আগের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ প্রতিবছর ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতো। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচের ঘটনাও ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে শুধু এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

তিনি আরও বলেন, সে সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ করত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এবং সেই সময়ের বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ এখনও বর্তমান সরকারকে ধাপে ধাপে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী সংসদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে উপস্থিত হন এবং অধিবেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাজেটের বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি, ভোটাভুটি এবং আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, অধিবেশনের বিরতির সময়ও প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যান এবং জরুরি বিভিন্ন সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। পরে মঙ্গলবার সংসদে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর বিকেলে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেটটি পাস হয়।

সরকারের দাবি, ব্যয় সাশ্রয় এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here